ভারতে চালের রফতানি মূল্য চলতি সপ্তাহে প্রায় দুই বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে নিম্নমুখী চাহিদা ও রুপির বিনিময় হার হ্রাস। যদিও আরেক রফতানিকারক দেশ থাইল্যান্ডে চালের রফতানি মূল্য এখন বেড়ে দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ভারতে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম টনপ্রতি ৩৮৪-৩৯১ ডলারে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি টন চাল বেচাকেনা হয়েছে ৩৯০-৩৯৭ ডলারে। ভারতে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৩৭৮-৩৮৫ ডলার।
কলকাতাভিত্তিক এক রফতানিকারক বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে আবারো ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার কমেছে। এ কারণে রফতানিকারকরা দামে ছাড় দিতে পেরেছেন। তবে আফ্রিকার ক্রেতাদের কাছে চাহিদা এখনো নিম্নমুখী।’
শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক চালের দাম এরই মধ্যে বেশ কয়েক বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। ভারতের বাড়তি মজুদ ও এশিয়ায় পর্যাপ্ত ফলনের কারণে চলতি বছরে দামে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার হবে না।
থাইল্যান্ডের চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম বেড়ে টনপ্রতি ৪২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, গত দুই সপ্তাহে যা ছিল ৪১০ ডলার। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বাথের বিনিময় হার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে চাহিদা এখনো নিম্নমুখী।
ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বড় কোনো কেনাবেচা হয়নি। তবে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।’
তিনি আরো জানান, অনুকূল পানির স্তরের কারণে এ বছর থাইল্যান্ডে চালের সরবরাহ ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিয়েতনামে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম বৃহস্পতিবার ছিল টনপ্রতি ৩৯৮ ডলার। এটি দুই সপ্তাহে আগের টনপ্রতি ৩৯৫ ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি। ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশজুড়ে জাতীয় ছুটির কারণে বাজার বন্ধ ছিল।
হো চি মিন শহরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সরকার চাল সংরক্ষণের জন্য কিনছে, এতে দাম কিছুটা সমর্থন পেয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে চাহিদা দুর্বল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমও খুব কম।’